বিজ্ঞাপন

বিএনপি এমপির ভুয়া অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

বিএনপি এমপির ভুয়া অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া, বিকৃত ও অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সাইবার মামলায় সৈয়দ তানভীর আহমেদ (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে সৈয়দ তানভীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সৈয়দ তানভীর মৌলভীবাজার পৌরসভার বেরীরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তার পূর্বে বাড়ী ছিল জুড়ী উপজেলায়। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন এলাকায় বসবাস করেন। তিনি আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তানভীর নিজেকে একটি ফার্মের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন। বেরিরপাড় এলাকায় তার ফার্ম রয়েছে বলে জানা গেছে।  তার স্ত্রী একটি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম

জানান, তাকে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিমান্ডে নেয়া হবে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি এম নাসের রহমানের সুনাম ক্ষুণ্ন ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ছবি ব্যবহার করে ভুয়া, বিকৃত ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে।

এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক গত ২ আগস্ট মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি মৌলভীবাজার পৌরসভার সৈয়ারপুর স্কুল রোড এলাকার নিজ বাসায় অবস্থানকালে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফেসবুকে প্রবেশ করেন। এ সময় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এমপি নাসের রহমানের ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি বিকৃত ও অশ্লীল ভিডিও দেখতে পান।

পাঁচজনের নাম উল্লেখ, অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন

অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫/৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারের অভিযোগ

এজহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট, শেয়ার ও প্রচার করা হয়েছে।

অভিযোগে তাদের ফেসবুক আইডির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘VOICE TV24’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকেও ভিডিও প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদী অভিযোগে বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এমপি নাসের রহমানের মাথার ছবি সম্পাদনা করে অন্য একজন ব্যক্তির শরীরের সঙ্গে যুক্ত করে ওই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভিডিওটি তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে বেআইনি সুবিধা আদায় এবং ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আরও এ ধরনের ভিডিও তৈরি ও প্রচার করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ গ্রহনের পর মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার রাত ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে আসামি সৈয়দ তানভীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশের (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য জানান, গ্রেপ্তারকৃত তানভীরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে বেরিয়ে আসবে কারা জড়িত।

মামলার বাদী মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) এডভোকেট নিয়ামুল হক জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কারও কুরুচিপূর্ণ বা বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া গম্ভীর ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অপপ্রচারমূলক ভিডিও পোস্ট, শেয়ার কিংবা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তাদের সবাইকেই এ মামলার আসামির আওতায় আনা হচ্ছে।

মাহিদুল ইসলাম/এমটিআই

বিজ্ঞাপন