নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের পর দিন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার অনিশ্চয়তায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও কৃষক।
অনেক এলাকায় দিনে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা ও সেবাখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জামপুর ইউনিয়নের তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ফটোকপি, কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে।
ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত দিচ্ছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে লোকসান বাড়ছে।
গৃহবধূ সায়মা আক্তার বলেন, এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হওয়ায় ছোট সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। তীব্র গরমে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সবার তো আর আইপিএস কেনার সামর্থ্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হৃদয় বলেন, রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল চার্জ ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় অনলাইন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক মালেক মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে রাতে রিকশা চার্জে দিলেও সকালে উঠে দেখি অর্ধেকেরও কম চার্জ হয়েছে। এরপর কিছুক্ষণ চালিয়ে বাড়িতে এসে দেখি আবার কারেন্ট নেই। আগে অটোরিকশা চালিয়ে ভালোভাবে চলতে পারলেও এখন খুব খারাপ সময় পার করছি। ঠিকমতো রিকশা চার্জ দিতে না পারায় আগেভাগেই কাজ বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। যা আয় হয়, তা দিয়ে বর্তমানে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, এত ঘন ঘন লোডশেডিং আগে দেখিনি। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সোনারগাঁ জোনাল অফিস) এর উপমহাব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোড ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মোঃমীমরাজ হোসেন/এমটিআই
