সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় এক গৃহবধূর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় শরিফুল ইসলাম মোড়ল (৪০) নামে জামায়াতের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে মামলার পর শরিফুল ইসলামকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাউনশ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক শরিফুল ইসলাম মোড়ল পার্শ্ববর্তী আজিজপুর গ্রামের মোজাম্মেল মোড়লের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাউনশ্রীপুর উত্তরপাড়ার এক গৃহবধূর সঙ্গে শরিফুল ইসলামের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। সোমবার রাতে তিনি ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করলে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দুইজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। এরপর দুইজনকে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাত পর্যন্ত এলাকাবাসী দুইজনকে আটকে রেখেছিল। শরিফুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে জামায়াতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
এ বিষয়ে দেবহাটা ইউনিয়ন জামায়াতের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম মাস্টার বলেন, শরিফুল ইসলাম তাদের সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী। ঘটনার বিষয়ে তিনি প্রথমে অবগত ছিলেন না। পরে লোকমুখে বিষয়টি জানতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাকে হেফাজতে নেয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইব্রাহিম খলিল/এসএইচএ
