বিজ্ঞাপন

রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, সালিশে জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, সালিশে জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে এ নিয়ে সালিশ বৈঠকে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোণা সদর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে তার পাশের বাড়ির গোলাপ মিয়ার মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে তাকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সালিশ বৈঠক বসে। ইতোমধ্যে সেই বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, রিপন এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও যৌন হয়রানিতে লিপ্ত ছিলেন। ভিকটিমের পরিবার দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় তারা সরাসরি পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হতে সাহস পায়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার প্রার্থনা করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সালিশে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর জানান, একটি অবুঝ মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং রিপন নিজে তা স্বীকার করায় গ্রামবাসী সর্বসম্মতিক্রমে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার বিয়ের খরচ বাবদ নগদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা তার বসতবাড়ির জায়গা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহিরাগত ও ভাড়াটিয়া হিসেবে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাকে সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি আইনি কোনো সাজা নয়, সমাজের শান্তি রক্ষায় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে।

তবে রিপন মিয়ার স্ত্রী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। স্বামীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, আমার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। স্থানীয় একটি সালিশে তার বিরুদ্ধে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের মধ্যে বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত একটি গাছের নিচে মেয়ের সঙ্গে সামান্য দুই মিনিট কথা বলার অপরাধ তুলে ধরে মাতব্বররা তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছেন। কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ সেখানে ছিল না। সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনে মেয়েটির ও আমার স্বামীর ডাক্তারি ও ডিএনএ পরীক্ষা করানো হোক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার চাই।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নারী নির্যাতন বা যৌন অপরাধসংক্রান্ত বিষয়ে বেআইনিভাবে সালিশ দরবার বসিয়ে টাকা দিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে নারী সংক্রান্ত কোনো অপরাধের বিচার স্থানীয়ভাবে সালিশ ডেকে টাকা জরিমানা করে মীমাংসা করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অন্যায়।

উল্লেখ্য, বিবাহিত রিপন মিয়ার স্ত্রীসহ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৬ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফেসবুকে যাত্রা শুরু করা রিপনের সহজ-সরল উপস্থাপনা ও ঘরোয়া ভিডিও দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে তার মুখে শোনা সংলাপ, ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। 

চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরএআর

বিজ্ঞাপন