বরগুনার তালতলী উপজেলায় মোসা. রিমা (২৭) নামে এক গৃহবধূর গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহত রিমার স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার সময় বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মারামারিতে জড়ায় নিহত রিমার উভায় পক্ষের স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর আগে বরগুনা সদর উপজেলার ৮ নম্বর সদর ইউনিয়নের কলাতলা নামক এলাকার শহীদ মৃধার মেয়ে মোসা. রিমার সঙ্গে ইউসুফ মুসল্লির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্বামীর বাড়ি তালতলী উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নের মঠখোলা নামক এলাকায় বসবাস করতেন রিমা। তাদের দাম্পত্য জীবন দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
রিমার স্বজনদের দাবি, সংসার জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে রিমার মনোমালিন্য হত। এরই জেরে গতকাল সোমবার গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়া অবস্থায় রিমাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে গৃহবধূ রিমাকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ ওঠায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় তালতলী থানা পুলিশ। তবে মরদেহ মর্গে নিয়ে আসার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে স্বামী ইউসুফসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য স্বজনরা আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন নিহত রিমার স্বজনরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বামী ইউসুফ ও অন্য স্বজনরা হাসপাতালের মর্গে আসেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের সহয়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ।
আবু বকর নামে নিহত রিমার এক দাদা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা শুনেছি রিমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ম্যানেজ করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরে আমরা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে আজ সকালে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কিন্তু মরদেহ রেখেই রিমার স্বামী দ্রুত চলে যায়।
নিহত রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি দূরে ছিলাম। মোবাইল ফোনে জেনেছি আমার বোনকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া দুই একদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল, তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, হত্যা নাকি আত্মহত্যা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্যই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
মো. আব্দুল আলীম/এসএইচএ
