বিজ্ঞাপন

আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

ব্যাংকের টাকার জন্য বাবাকে বালিশ চাপায় হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

ব্যাংকের টাকার জন্য বাবাকে বালিশ চাপায় হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার ব্যাংকে রাখা প্রায় ১৮ লাখ  টাকা আত্মসাতের জন্য বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে  মেয়ে ও ব্যাংকের স্টাফসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত বৃদ্ধের আরেক মেয়ে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদস্তের জন্য বৃদ্ধের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) রাতে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। দুপুরে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকা থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। গত ২৩ জুন নিহত তৈয়ব আলীর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম (৬০) বাদি হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগম (৪৫) সহ চারজনের নামে আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অপর তিন আসামি হলেন, রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৫), সুমাইয়া আক্তারের স্বামী হামিদুল ইসলাম (৩৫) ও নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার সোহাগ মিয়া। এছাড়াও অজ্ঞাত নামা আরও ২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।

তাদের মধ্যে আসামি রহিমা বেগম নিহতের ছোট মেয়ে এবং সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের টুপামারী গ্রামের মৃত কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী। এছাড়া হামিদুল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ডোবার বাজারের মৃত আনসার আলীর ছেলে। আসামি সুমাই আক্তার, রহিমা বেগমের মেয়ে এবং হামিদুলের স্ত্রী।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সাদুল্লাপুরের তালুক সাহাবাজ গ্রামের বৃদ্ধ তৈয়ব আলী সরকারের নলডাঙ্গার ইসলামী ব্যাংক শাখায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিলো। এই টাকা আত্মসাতের জন্য বৃদ্ধের মেয়ে রহিমা বাবার চেকবই চুরি করেন। পরে চেকবই চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত বছরের ১২ জানুয়ারি বৃদ্ধ ব্যাংকে আবেদন করে জানান, তার চেকবই হারিয়ে গেছে এবং এই একাউন্টে কেউ টাকা তুলতে আসলে যেন না দেওয়া হয়।

এসবের মধ্যেই গত ১৪ মার্চ বৃদ্ধের ছেলের অজান্তে বৃদ্ধের মেয়ে রহিমা অসুস্থ্য বাবাকে চিকিৎসার কথা বলে নলডাঙ্গার তার বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা করান। কিস্তু তাতে কোনো উন্নতি নাহলে মামলার বাদী ও নিহতের বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে আসামি রহিমা ঘোরতর বাধা দেয়। পরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে জোরপূর্বক চেকের পাতায় স্বাক্ষর করে নিয়ে দুই দফায় বৃদ্ধের একাউন্ট থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, বৃদ্ধের কাছে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি কাউকে জানাতে পারে -এমন আশঙ্কা থেকে গত ১৯ মে রাত ১১ টার দিকে আসামি রহিমা অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় বৃদ্ধকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

এমনকি  দ্রুত তার  দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরে এ ঘটনায় গত ২৩ জুন হত্যা মামলা করা হলে দুই মাস ১৬ দিন পর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। মরদেহ উত্তোলনে দায়িত্ব পালন করেন এক্সিকিউটি ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোস্তাফিজুর রহমান।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদস্তের প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতলে পাঠানো হয়।

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃদ্ধের মেয়ে বাদি হয়ে আদালতে মামলাটির জন্য আবেদন করেন। পরে আদালত আমাদেরকে  মামলটি রুজু করতে নির্দেশ দেন। আমরা মামলা রেকর্ড করি।

মাসুম বিল্লাহ/গাইবান্ধা

বিজ্ঞাপন