বিজ্ঞাপন

বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

জুলাইয়ের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসা একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ছিল

জুলাইয়ের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসা একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ছিল

জুলাইয়ের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসা একটা রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে লক্ষ্মীপুরে জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল মিলনায়তনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের মধ্যে আমরা বিভক্তি লক্ষ্য করছি। ৫ আগস্টের আগের চিত্র আর পরের চিত্র আমাদের সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। ১৭ বছর আমি-আপনি, আপনারা-আমরা অনেকভাবে নির্যাতিত ছিলাম। সাধারণ মানুষ অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রত্যাশা ছিল নতুন একটা বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব। সেই চিন্তা-ধারণা, চেতনা থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলো। তখন জুলাইয়ের নেতা হিসেবে যারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, আমরা কয়েকজনের কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়েছি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করা এবং জুলাইয়ের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসা একটা রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ছিল। তারা ধারণা করেছিল, নির্বাচন হওয়া মাত্রই হয়তবা কৌশল অবলম্বন হোক আর অনেকের সাহায্য সহযোগীতার মাধ্যমেই হোক, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় হয়তো তারা অধিষ্ঠিত হবেন। যখন সে আশা থেকে তারা সরে দাঁড়ালেন, তখন এই বিভক্তি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠে।”

অ্যানি আরও বলেন, “পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে একটা সরকারের জন্য খুব একটা বেশি সময় নয়। প্রথমদিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং সকল বিভাগে সবাইকে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের সকল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ যেন সম্পৃক্ত থাকেন, দেশের জন্য ও দেশের মানুষের দিকে উনার নজর রয়েছে। নির্বাচনের আগ থেকেই উনার সেই পরিকল্পনা ছিল। নির্বাচনের পর তিনি কিভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। দীর্ঘদিনের যে বঞ্চনা, অবহেলা, মানুষের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দেশ যে একটা ভয়ংকর অপরাজনীতির সংস্কৃতির তলে আবদ্ধ ছিল, এখান থেকে মানুষকে উদ্ধার করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি এখন পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।”

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমরা যখন শপথ নিই, সেদিন ওনাদের অনুপস্থিতি দেশের মানুষ লক্ষ্য করেছে। একটা নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করবেন, দেশের নেতৃত্ব দেবেন, জনগণের কাজ করবেন, সময়ের ব্যাপার। একটা ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এই সরকারটা পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে যেভাবে অসহযোগীতা পাওয়ার মত কাজ করে যাচ্ছেন, এটা মানুষের প্রত্যাশার জায়গা থেকে অনেক দূরে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনের সভাপতি এডভোকেট শৈবাল কান্তি সাহা। এতে জুলাই স্মৃতি প্রদর্শনী, চিত্রাংকন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগীতার পুরস্কার প্রদান করা হয়।

হাসান মাহমুদ শাকিল/এমটিআই