জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফেনীতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া, আলোচনা সভা এবং প্রতীকী আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার প্রতীকী বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করেছে জেলা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতীকী আদালতের রায় ঘোষণার পর তাদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের বেদিতে একটি প্রতীকী আদালত স্থাপন করা হয়। সেখানে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সাক্ষী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আসামির কাঠগড়ায় প্রতীকী আসামিদের উপস্থিতি দেখানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মহিপালের হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলোকচিত্র ও বক্তব্য উপস্থাপনের পর প্রতীকী আদালত শেখ হাসিনা, নিজাম উদ্দিন হাজারী, আলাউদ্দিন নাসিম, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়াজীর বিরুদ্ধে প্রতীকী ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। পরে তাদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।
বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। একইভাবে নিজাম উদ্দিন হাজারীও দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশে ঢোকার সবচেয়ে কাছের জায়গা হলো পরশুরামের বিলোনিয়া। সেখানে আমরা মালা নিয়ে অপেক্ষা করব। আসুন, আপনাদের যথাযথ মেহমানদারি করা হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে নিজাম উদ্দিন হাজারী ও তার অনুসারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই সময় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানানো হলেও নিজাম উদ্দিন হাজারীর অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি মহিপালের হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতি এবং ফেনীর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলো এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর না হওয়ায়ও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার দেখতে চায় ফেনীবাসী। জেলা ছাত্রদলের প্রতীকী বিচারের মতো বাস্তবেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তার মাধ্যমে মহিপালের হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করতে জেলা বিএনপি উদ্যোগ নেবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এম কায়সার এলিন, জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাত, যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল ও শওকত আলী জুয়েল পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকের হোসেন রিয়াদ পাটোয়ারীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। পরে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
তারেক চৌধুরী/এমটিআই
