বিজ্ঞাপন

সংস্কারের অভাবে অচল টার্মিনাল, মহাসড়কেই বাসের যাত্রী ওঠানামা

সংস্কারের অভাবে অচল টার্মিনাল, মহাসড়কেই বাসের যাত্রী ওঠানামা

প্রায় চার দশক আগে যাত্রীসেবার উদ্দেশ্যে নির্মিত নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এখন সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বড় বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার কারণে বাসগুলো টার্মিনাল এড়িয়ে মহাসড়কেই যাত্রী ওঠানামা করছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই টার্মিনাল থেকে পার্বতীপুর, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নীলফামারী, জলঢাকা, ডোমার, চিলাহাটি, ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন রুটে দৈনিক শতাধিক বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও যশোরের দূরপাল্লার একাধিক দিবা ও নৈশ কোচও এখান থেকে পরিচালিত হয়।

দিনাজপুর ও রংপুর জেলার মধ্যবর্তী স্থানে যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আনুমানিক ১৯৮৪ সালে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালটি গড়ে ওঠে। পুরো টার্মিনাল খানা খন্দে ভরা। বাস চালকরা ঠিকমতো গাড়ি পার্কিং করতে পারেন না। বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণজুড়ে পানি থইথই করে।

বাসের যাত্রী হনুফা বেগম বলেন, টার্মিনালে ন্যূনতম যাত্রীসেবা নেই। টয়লেটের অভাবে নারী যাত্রীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। সন্ধ্যার পর লোকাল বাস না পেয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। 

আরেক যাত্রী রফিক উদ্দিন বলেন, সেখানে বাস থামার মতো কোনো অবস্থা নাই। টার্মিনালের খারাপ অবস্থা হওয়ার কারণে বাস মহাসড়কের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো হয়। 

বাসচালক স্বপন মিয়া বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই পৌরসভার বাজেটে বরাদ্দের কথা শুনেছি, কিন্তু কাজ হয় না। টার্মিনালটি অকার্যকর হওয়ায় প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো হচ্ছে।

এবিষয়ে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে টার্মিনালটি সংস্কার করা হয়নি। ভবনের পাশাপাশি ভেতরের রাস্তায় বড় বড় খানা খন্দ। এতে বাসেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। পৌর পরিষদকে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।  

এবিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রেখে বাসটার্মিনালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যাত্রী ও শ্রমিকদের কষ্ট লাঘব হয়।

শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এসএইচএ