বিজ্ঞাপন

‘সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রশাসন’

‘সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রশাসন’

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার দলীয় সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টানা ৪ ঘণ্টা সশস্ত্র মহড়া দিলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর মাধ্যমে প্রশাসন এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ থেকে জুলাই সনদ, গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ ও তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।  

রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, আমার বাংলাদেশ-এবি পার্টির মহানগর সভাপতি আবদুর রউফ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামত উল্লাহ, এবি পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবার রহমান মাহবুব প্রমুখ।

এসময় সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, গতকাল মঙ্গলবার চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মাদরাসায় হঠাৎ করে ‘ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি জাতির সামনে ভেসে উঠলো’ আমরা খেয়াল করলাম পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নির্বাচনে ছাত্রশিবির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে তাদেরকে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল সেদিন থেকেই তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ভালো কথা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন জুলাই প্রদর্শনী চলছে, আমার প্রিয় ছাত্রদলের ভাইয়েরা গিয়ে আপত্তি জানালেন যে এইখানে প্রদর্শনী চলবে না, কেন এখানে সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদের ছবি আছে এটা করা যাবে না।

তিনি বলেন, আমি বলতে চাই এই সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদদেরকে খালেদা জিয়া পাশে নিয়ে বসেছিলেন। তাদের বিচার যদি ন্যায় হয় তাহলে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি কি না জায়েজ? তারেক জিয়ার সাজা কি নাজায়েজ ছিল? আমরা সেটি বলি না। আমরা বলি ফ্যাসিস্ট এর আমলের সকল বিচার ছিল বিচারর নামে জুলুম। আপনারা ভুল করেছেন সেইদিন ছাত্রজনতা নারায়ে তকবির স্লোগানে আপনারা দিকবিদিক ছুটে পলায়ন করেছিলেন। পরের দিন আপনারা কি করলেন? একদল টোকাইয়ের সম্মেলন করলেন, তাদের হাতে আমরা কি দেখলাম অস্ত্র দেখলাম, রামদা দেখলাম। তিনি আরও বলেন ১২ ফেব্রুয়ারি রংপুরে জনগণ আপনাদেরকে লালকার্ড দেখিয়েছে।

সাঈদী নিজামীর ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ব্যাপারে এমপি বলেন, গতকাল পরশু যারা আল্লামা সাঈদী, নিজামীর ব্যানারে জুতা দিয়ে লাথি মেরেছেন, খেয়াল রাখবেন লক্ষণ ভালো না। এই চিত্র শাহাবাগে হয়েছিল তারপরে ফড়িংয়ের মতো হ্যালিকপ্টারে পলায়ন। সেই চিত্র আবার দেখছি! আল্লামা সাঈদীকে যারা রাজাকার বলেন, সাঈদীর ভাষায় তাদের বলতে চাই, তারা পিতৃ পরিচয়হীন জারোজ সন্তান। আলেম ওলামাদের নিয়ে তামাশা করবেন না, জাতির কলিজার টুকরা সাঈদীকে নিয়ে তামাশা করবেন না।

সমাবেশের আগে শাপলা চত্বর থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে গ্র্যান্ড মোড় ঘুরে পুনরায় শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হামিদুর রহমান, মহানগর সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি রাকিব মুরাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।   

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা শাপলা চত্বরে সড়কের একপাশে মঞ্চ তৈরি করে এই গণসমাবেশের আয়োজন করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নগরীর শাপলা চত্বর থেকে কলেজ রোড, স্টেশন রোড এবং শাপলা ব্রিজ সংলগ্ন সড়কজুড়ে যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। যদিও ট্রাফিক পুলিশ এবং জামায়াতে ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকরা যানজট নিরসনে সড়কে সরব ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ