বিজ্ঞাপন

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে ২ হাজার পরিবার

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে ২ হাজার পরিবার

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ছয়টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে একটি আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি আবার কমে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট বেড়ে যায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি প্লাবিত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যাওয়ায় ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বন্যার পানি নামার সময় দহগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকায় সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় থেকে আঙ্গরপোতা ও পাটগ্রামগামী আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ধসে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এর ফলে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড়া ও সাকোয়াপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

দহগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসাদুল মিয়া বলেন, সকালে এসে দেখি সড়ক ভেঙে গেছে। এটি দ্রুত সংস্কার না করলে চলাচল সম্ভব নয়। ভাঙা অংশ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে।

এসএইচএ