নিজের একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করেই পরিচালনা করতেন অনলাইন জুয়ার (ক্যাসিনো) বিশাল নেটওয়ার্ক। মোবাইল ফোনে ছিল নিজ নামে নিবন্ধিত ৩৮টি অনলাইন ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট অ্যাপ।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অ্যাপের মাধ্যমে তিনি নিজে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় অনেককেও অনলাইন ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। দীর্ঘদিনের নজরদারির পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম খোরশেদ আলী (৩০)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মালিগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোরশেদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাইয়ে মোবাইল ফোনে ৩৮টি অনলাইন ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট অ্যাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এসব অ্যাপের মাধ্যমে তিনি ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খোরশেদ আলী বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজ নামে তৈরি ক্যাসিনো আইডির মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, তিনি নিজে খেলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মানুষকে অনলাইন ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেন। তার কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেক তরুণ এই জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। কেউ কেউ ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে আত্মহননের পথও বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তার সমাজে ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয় তৈরি করছে।
খোরশেদ আলীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়াতে সাহস না পায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, মাদক ও অনলাইন ক্যাসিনো উভয়ই সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যারা মানুষকে প্রতারণা ও অবৈধ জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর।
তিনি আরও বলেন, অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণাসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে
