বিজ্ঞাপন

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজিত সভায় যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজিত সভায় যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার একটি বাজারে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই দলের সদস্য সচিব জোয়ারদার শাহ আলম তুফানের বিরুদ্ধে। এ সময় সভায় উপস্থিত তরিকুল ইসলাম নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা জুড়ে সমালোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে বুধবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার খামারপাড়া বাজারের নিশান মার্কেটে বাজার কমিটির উদ্যোগে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সভা শুরু হওয়ার আগেই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ারদার শাহ আলম তুফানের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন ধারালো দা ও হাতুড়ি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা সভায় হামলা চালান। হামলায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদের একটি হাত ভেঙে যায়। এছাড়া তরিকুল ইসলাম নামে অপর একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

খামারপাড়া বাজার কমিটির নেতারা জানান, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশনায় বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় ওসির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি পৌঁছানোর আগেই তুফান কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন। পরে তিনি বলেন, ‘যে মিটিংয়ে আমি নেই, সেই মিটিং হবে না।’ এ সময় উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উঠে যেতে বলেন। এতে বাধা দিলে হামলা, ভাঙচুর এবং হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

খামারপাড়া বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ওসির নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ এবং সদস্য সচিব জোয়ারদার শাহ আলম তুফান দুজনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে সভায় এসে হামলা চালিয়ে পুরো আয়োজন পণ্ড করে দেওয়া হয়।

হামলায় আহত উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ বলেন, গত সোমবার শ্রীকোল ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে তাকে সভাপতি এবং জোয়ারদার শাহ আলম তুফানকে সহ-সভাপতি করা হয়। সভাপতি পদে মনোনীত না হওয়ায় তুফান ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি বলেন, “এদিন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কোনো সভা ছিল না। বাজার কমিটির শান্তি-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে সভা পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ারদার শাহ আলম তুফানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানা পুলিশের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খাইরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাছিন জামান/আরকে

বিজ্ঞাপন