পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি রূপচাঁদা মাছ। স্থানীয় মাছের আড়তে মাছটি নিয়ে জেলে, ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যায়। পরে মাছটি প্রায় ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মাছটি এফবি জারিফ-১ ট্রলারে ধরা পড়ে। ট্রলারটির মাঝি ছিলেন দেলোয়ার। পরে মাছটি মহিপুরের মনোয়ারা ফিশ গদিতে আনা হলে প্রতি মণ ৯০ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ৩ হাজার ৮২৫ টাকায় বিক্রি করা হয়।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির বলেন, এ ধরনের বড় আকারের রূপচাঁদা খুব বেশি ধরা পড়ে না। মাছটির আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ভালো দাম পাওয়া গেছে।
মাছটির ক্রেতা স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, গভীর সমুদ্রের বড় রূপচাঁদার চাহিদা সব সময়ই বেশি। ভালো মানের হওয়ায় মাছটি কিনেছি। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত। মাছটি ঢাকায় পাঠানো হবে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, রূপচাঁদা উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছ। এটি মূলত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে এবং সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের একটি ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়। তার মতে, বড় আকারের মাছ ধরা পড়া সাগরের জীববৈচিত্র্যের জন্যও ইতিবাচক লক্ষণ। তবে এ সম্পদ টেকসই রাখতে পরিকল্পিত আহরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছগুলোর মধ্যে রূপচাঁদা অন্যতম। সঠিকভাবে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবান মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে, পাশাপাশি জেলেরাও অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হবেন।
এসএম আলমাস/আরকে
