চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেচ প্রকল্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৬ সদস্যকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও তারা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মৃত আনোয়ারের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু (২৮), বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার কাশেম খাঁর ছেলে টুলু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত মজিবরের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), মিজানুরের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭) এবং আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহমেদ (৩৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর বিশ্বাসের দক্ষিণ মাঠে সেচের কাজে ব্যবহৃত গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক লাইনে সংযুক্ত ৩টি (প্রতিটি ১০ কেভিএ) ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ তামার তার ও তেল চুরি হয়। একই রাতে পাশের আরেকটি সেচ প্রকল্পের একটি ট্রান্সফরমার থেকেও তামার তার ও তেল চুরি করা হয়।
এ ঘটনায় জীবননগর থানায় মামলা হলে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জীবননগর থানাকে যৌথভাবে তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের নির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সিসিআইসি'র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, এসআই আশিকুর রহমান, এএসআই মো. রজিবুল হক, আরিফুল ইসলাম এবং জীবননগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শোভন দাস তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া মডেল টাউন এলাকা থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেচ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ লাইনের ট্রান্সফরমার চুরি করে আসছিল। পরে সেগুলো থেকে তামার তার ও তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করত চক্রের সদস্যরা। তাদের মধ্যে কেউ চুরির পরিকল্পনা, কেউ ঘটনাস্থল রেকি, কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং কেউ চোরাই মালামাল পরিবহন ও বিক্রির দায়িত্ব পালন করতেন।
জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আফজালুল হক/এমএমবি
