বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

‘যাত্রা ও সার্কাস শিল্পের আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার’

‘যাত্রা ও সার্কাস শিল্পের আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রা ও সার্কাস শিল্প অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এসব শিল্পকে আধুনিক রূপ দিতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে যাত্রাশিল্পকে চীনের বিখ্যাত অপেরার আদলে এবং সার্কাসকে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রোবেটিক পরিবেশনার মাধ্যমে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ১৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র (হারমোনিয়াম ও তবলা) এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রাজবাড়ী থেকে ২৫ জন শিশুকে অ্যাক্রোবেটিকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে এলে বাংলাদেশের সার্কাসকে বিশ্বমানের আধুনিক অ্যাক্রোবেটিক সার্কাসে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে এ প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে আঞ্চলিক উৎসব ও জাতীয় আয়োজন করা হবে। সারা দেশ থেকে বাছাইকৃত শিল্পীরা ঢাকায় যাবে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। আমরা খারাপ সংস্কৃতিকে মোটেও জায়গা দেব না। যেমন আমাদের যাত্রা বাসার কাজ। এটাতো নষ্ট হয়ে গেছে। চীনের অপেরার আদলে আমরা যাত্রাকে আনবো।

রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জেলায় একটি কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশের মাধ্যমে রাজবাড়ীকে একটি সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী, হারমোনিয়াম, তবলা এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দেওয়া হয়।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ