গাইবান্ধার সাঘাটায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে আহত সালাউদ্দিন মারা গেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি ঢাকার একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃতের বাবা দুদু মিয়া বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
সালাউদ্দিন ১ মাস ১৮ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী ছিলেন। বাড়ি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকায়।
এর আগে গত ২১ জুন সাঘাটার উপজেলা চত্বরের চারমাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন একই ঘটনায় ঘটনাস্থলে খুন হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪)। সাইফুল্লাহ বারী ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ‘কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনার জের ধরে ২১ জুন উপজেলার বোনারপাড়ায় শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে পেয়ে তার ওপর চড়াও হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ আরও বেশ কয়েকজন। কমিটির ইস্যু তুলে প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন মুকুলসহ তার সঙ্গীরা। পরে শিক্ষক হাবিবুল্লাহর মোবাইল কলে তার ভাতিজা মোবাশ্বের, সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনসহ অন্যরা এগিয়ে এলে তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। উপস্থিত লোকজন উভয়পক্ষকে নিবৃত করতে তাৎক্ষণিকভাবে দুই দিকে সরিয়ে দেন।
এর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহদের ওপর হামলা চালায়। যুবদল নেতা মুকুলের ছোট ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর গলায় শাবল দিয়ে আঘাত করলে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সময় সাইফুল্লাহ বারীর বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন প্রতিপক্ষরা। পরে স্বজনরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, একই সময়ে গুরতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় এবং পরে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
পরে ঘটনার পরদিন ২২ জুন রাতে ৬ জন নামীয় ও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞানামাসহ ২১ জনকে আসামি করে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান। এ মামলায় তিনজন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার প্রথম নামাজে জানাজা শেষে গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজার পর দাফন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত সালাউদ্দিনের বাবা দুদু মিয়া।
মাসুম বিল্লাহ/আরকে
