নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ একই পরিবারের তিনজনের মধ্যে আট বছর বয়সী শিশু মারুফ মারা গেছে। রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মারুফের বাবা মো. মাইদুল ইসলাম ও মা বিউটি আক্তারও একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার সেলিম মিয়ার টিনশেড বাসায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গ্যাসের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। পরে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটলে ঘরের ভেতরে থাকা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফ দগ্ধ হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকেরা তাদের জানিয়েছেন, আগুনে মারুফের শরীরের ৯০ শতাংশ, তার বাবা মাইদুলের ৮৫ শতাংশ এবং মা বিউটির ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। মারুফের অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। এক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সালেহা বেগম বলেন, আগুনে বিউটির পুরো শরীর ঝলসে যায়। তার চুল পুড়ে যায় এবং মুখের চামড়াও উঠে যায়। পরিবারের রান্নার গ্যাসের চুলা ঘরের বাইরে ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় মাইদুল ঘরের ভেতরে ছিলেন। সিগারেট ধরানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালানোর সময় জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজন দগ্ধ হন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন বলেন, গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শিশু মারুফ আজ সকালে মারা যায়।
মেহেদী হাসান সৈকত/আরকে
