বিজ্ঞাপন

পুলিশের পোশাকে অভিযানে বাদী, ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ

পুলিশের পোশাকে অভিযানে বাদী, ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ

নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের সঙ্গে অভিযানে যান রংপুরের পীরগাছার মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালক। অভিযানের এক পর্যায়ে বাসার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনারুল হোসেন বকসী। নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে মনারুলের এক ভাগনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।

নিহত ছাত্রদল নেতার স্বজনদের অভিযোগ, কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নেন এবং তারাই ধাক্কা দিয়ে মনারুলকে ছাদ থেকে ফেলে দেন।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ও উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে যান বলে অভিযোগ করেন মনারুলের স্বজনেরা। তারা দাবি করেন, এ ঘটনার ফুটেজ ওই বাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় আছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মনারুলের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে স্বজন ও বিক্ষুব্ধ লোকজন থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা মনারুলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের এক নারী স্বজন বিক্ষোভে বলেন, মিন্টু পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। তাহলে তিনি ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পেলেন কোথায়, তা তদন্ত করতে হবে। তার অভিযোগ, পীরগাছা থানা পুলিশের সহযোগিতায় মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে সাভারে অভিযানে যান।

স্বজনদের দাবি, সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে চালানো অভিযানের সময় মনারুল ভবনের ছাদে ছিলেন। সেখানে মিন্টু ও তার শ্যালকসহ কয়েকজন গেলে মনারুল তাদের চিনে ফেলেন। এরপর তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মনারুলকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। তারা ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানান।

বিক্ষোভে বক্তব্য দেওয়া আওলাদ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া তাকে এবং কিশোরের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মিন্টু মিয়া পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই কিশোরীকে উদ্ধারের তথ্যের ভিত্তিতে পীরগাছা থানার চারজন পুলিশ সদস্য ঢাকার সাভারে যান। পরে সাভার মডেল থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসির স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। মনারুলের বাবা জাফর আলীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলার সময় ভবনের ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে নিচে গিয়ে মনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মনারুল হোসেন বকশী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত। সেখানে স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে তিনি থাকেন।

মনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সাভার থানা পুলিশ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, বাদীর পুলিশের পোশাক পরার বিষয়টি সঠিক নয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য সাভার থানার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সাভারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রংপুরেও সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন