স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডেভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি।
তিনি বলেন, নারীকে এগিয়ে নিতে হবে সবার আগে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক বাধা দূর করতে হবে। যেকোনো নির্বাচনে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হাঙ্গার প্রজেক্ট ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের উদ্যোগে ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব: প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুর মহানগরীর একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক জেলার সহ-সভাপতি শাহনাজ পারভীন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজেকা সুলতানা ফেন্সি বলেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করতে নারীর সক্রিয় নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। স্থানীয় সরকার জনগণের সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানেই নারীর নেতৃত্ব বিকাশের সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে। যোগ্য, সৎ ও জনসম্পৃক্ত নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তাহীনতা প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সেই পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। নারীরা নিরাপদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা চায়, এর প্রধান অন্তরায় দৃষ্টিভঙ্গি। পুরুষরা আমাদের যেমন পরিপূরক, তেমনি কাপুরুষ-চরিত্রহীন পুরুষরা নারীদের জন্য ভয়ংকর। চরিত্রহননের চেষ্টা ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমেও নারীদের পথচলা রুখতে চেষ্টা করা হয় এসব অপচেষ্টা বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ বাড়াতে হবে।
বৈঠকে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট রংপুর অঞ্চলের সমন্বয়কারী রাজেশ দে’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য আশফাকুল ইসলাম বসুনিয়া আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কমিটির প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি রংপুর মহানগর কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলালউদ্দিন কাদেরী শান্তি, সুজন রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আলম বেঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন, সুজন মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হায়দার স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরজানা সালেক ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আফরোজা শারমিন কনা।
এছাড়াও শিক্ষক ড. নাসিমা আক্তার, নারীনেত্রী ও সমাজ উন্নয়নকর্মী সমশে আর বিলকিস, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রত্না, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক গাইবান্ধা জেলা সভাপতি অঞ্জলী রানী দেবী, নারী উদ্যোক্তা জুয়েনা ফেরদৌসী মিতুল, জামায়াতে ইসলামী মহিলা শাখার নেত্রী শামীমা চৌধুরী, নিশাত রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি মাহাবুব আরা বেগম লীনা, সাধারণ সম্পাদক রুম্মানা জামান, সাংবাদিক ও সংগঠক ফরাহাদুজ্জামান ফারুক, আসাদুজ্জামান আফজাল প্রমুখ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গণমুখী করতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা যাতে ভয় ও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য নারী নেতৃত্ব বিকাশে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের কারণেই নারীরা রাতে কর্মক্ষেত্রে বা ঘরের বাইরে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। শিক্ষা ও সচেতনতার ঘাটতিও নারীদের ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম অন্তরায়। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার শক্তিশালী ও জোরদার ভূমিকা রাখবে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ
