বিজ্ঞাপন

রাজশাহীতে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

রাজশাহীতে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই পক্ষ। এক পক্ষ দ্রুত সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবি করেলেও অন্য পক্ষ বলছে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকায় এর আগে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই।

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরীর সপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে মানববন্ধন ও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওদাপড়ার ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ইউনিয়নের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কিছু শ্রমিক নামধারী ব্যক্তি ইউনিয়ন দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ২০১৭ সালের পর ইউনিয়নে সাধারণ সভা ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। দ্রুত সাধারণ সভা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মেয়ের বিবাহ ভাতা, ছেলের শিক্ষা ভাতা ও মৃতকালীন অনুদান যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা চাই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হোক। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। নির্বাচন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে কর্মবিরতি পালন করা হবে। একই সঙ্গে ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন। ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ৭০০ শ্রমিক থাকলেও মানববন্ধনে উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।

এদিকে, মানববন্ধনের আয়োজক সাজ্জাদ হোসেনের মেয়ের বিবাহ ভাতার টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে টাকা নিতে দেখা যায়। বিষয়টি স্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কন্যার বিয়ের জন্য আমরা ৪০ হাজার টাকা পাই। কিন্তু আমাকে ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। বিগত কমিটি ২০ হাজার ও বর্তমান কমিটি ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। অনেক শ্রমিক এসব ভাতার টাকা পাননি।

অন্যদিকে, ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মাইনুল হক মানা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বর্তমান কমিটির নির্বাচনী বৈধতা রয়েছে এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত তাদের মেয়াদ রয়েছে। তাই এর আগে নির্বাচন দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কমিটি বড় অঙ্কের আর্থিক দায় রেখে গেছে। বর্তমান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও শ্রমিকদের সীমিত আয় থেকে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী কমিটির দেনা পরিশোধে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মাইনুল হক মানা বলেন, ‘বিগত সময়ে ফ্যাসিস্টরা ইউনিয়ন চালিয়েছে। তখন আমাকে ২৮ দিন জেলে থাকতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট হলে জেলে যেতে হতো না। তখন সাজ্জাদরা তাদের দলে ছিল। এখন পোশাক পাল্টেছে।’ তিনি আরও বলেন, সরকার পতনের পর সাবেক কমিটির সদস্যদের ইউনিয়নের হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। পরে আইনগত প্রক্রিয়া ও ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা আসার পর দেখেছি ১২৫টি কন্যা বিদায়, ৩৫টি শিক্ষাভাতা ও ৬৮টি মৃতকালীন অনুদান বকেয়া রয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা। মানববন্ধন করা সাজ্জাদ হোসেনও বর্তমান কমিটির কাছ থেকে কন্যার বিয়ের জন্য টাকা নিয়েছেন। আমরা চাই সবাই মিলে এই সংগঠন পরিচালনা করব। আমাদের কোনো বিষয়ে অসঙ্গতি থাকলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। তবে সাবেক কমিটির লোকজন সংগঠনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মধু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোশিব শাহ, সহসাধারণ সম্পাদক শামীম মণ্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক আলী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব আলী ও দপ্তর সম্পাদক মাজদার হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহিনুল আশিক/এমএমবি

বিজ্ঞাপন