নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের এক মাস না যেতেই মারা গেছে প্রায় তিন শতাধিক গাছ। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে করা এ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু রোপণের পর সঠিকভাবে পরিচর্যা না করার কারণে অধিকাংশ চারা মারা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার পুটিমারি ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত দেড় কিলোমিটার অংশে খাল খনন কাজ করা হয়। সেখানে খালের দুইপাশে ৭০০ তাল ও ১২০০ ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। সেখানে তালগাছের চারা রোপণ ও গাছের চারা ঘিরে রাখার জন্য চারা প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০১ টাকা। ফলজ গাছের চারা প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ টাকা।
তবে বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী রোপণ করা তাল গাছের চারা ৭০ টাকা এবং প্লাস্টিক নেট গার্ড যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০০ টাকা । রোপণ করা ফলজ গাছের চারার বর্তমান বাজার মূল্য ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা। এতে তাল গাছের চারায় প্রায় ২০০ টাকা এবং ফলজ গাছে ১০ থেকে ২০ টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ধাইজান নদীটি খনন করা হয়। খনন হওয়া নদীকে খাল দেখিয়ে ফের নামমাত্র খনন করা হয়েছে। এক মাস না যেতেই খালের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের পাড়জুড়ে রোপণ করা দুপাশে সারি সারি প্রায় তিন শতাধিক তালের গাছের চারা মারা গেছে। কোথাও গাছের পাতা ঝরে গেছে, আবার কোথাও শুধু শুকনো ডালপালা পড়ে আছে। কয়েকটি স্থানে গাছের চারার গোড়ায় মাটি শক্ত হয়ে থাকলেও নিয়মিত পানি দেওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও এর কোনো সুফল মিলবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগটি শুরুতে ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু গাছের চারা লাগানোর পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করা হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক গাছের চারা মারা গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্য নেওয়া উদ্যোগও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, শুরুতে খাল খননের কথা শুনে ভাবছিলাম এটি হলে এলাকার কৃষকদের সুবিধা হবে। কিন্তু সেখানে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে সেগুলো মরে গেছে। তাছাড়া খাল খননের এক মাস না যেতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।
আরেক বাসিন্দা খালেক উদ্দিন বলেন, এখানে নদীকে খাল দেখিয়ে খনন করা হয়েছে । খালের দুই পাশে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে তবে সেগুলো এক মাস না যেতে প্রায় ৩০০ গাছ মরে গেছে। ভালো মানের চারা না লাগানোর কারণে অল্প সময়ে এগুলো মারা গেল। এখানে শুধু ঘিরে রাখা দেখা যাচ্ছে, ভিতরে চারা মরা ।
বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, চারা অল্প টাকায় কেনার কারণে রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে মরে গেছে। শুনেছি এক গাছে ৫০১ টাকা ব্যয় করা হয়েছে তবে এ টাকা আসলেই ব্যয় করলে গাছ ভালো থাকত। বরাদ্দ সঠিক ব্যবহার না করার কারণে এমন হয়েছে ।
এবিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও পুটিমারি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প আমার নামে আছে আমি সভাপতি। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলার মুকুল ভাই সহযোগিতায় আছেন। এছাড়াও মুকুল ভাই ২০০ তাল গাছের চারা ম্যানেজ করে দিয়েছেন। সেখানে পরিচর্যার গাফিলতি আছে, মরা গাছগুলো নতুন করে লাগানো হবে। কোনো তাল গাছ ৪০ টাকা ,আবার কোনোটা ৮০ টাকায় কেনা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বলেন, সেখানে তালের ৭০০ গাছ লাগার কথা থাকলেও আমরা এক হাজার লাগিয়েছি। সেখানে যে গাছগুলো মারা গেছে সেগুলো নতুন করে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে ।
এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন , বিষয়টি জানালেন, সেখানে কোনোরকম অনিয়ম থাকলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এসএইচএ
