গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের একটি নির্জন স্থানে সরকারি এক কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশের একটি ছাউনি থাকলেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে নির্জন এ সড়কে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের পুলবন্দি ও ফলিয়া ব্রিজের মধ্যবর্তী ‘ফলিয়ার পাথার’ নামক নির্জন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ের শিকার মেহেদী হাসান সরকার উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার তথ্য অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মস্থল ঢাকা থেকে রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন মেহেদী হাসান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফলিয়ার পাথার এলাকায় পৌঁছালে ছুরি হাতে তিন ব্যক্তি তার রিকশার গতিরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন তাকে জোর করে রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে একটি জমির মধ্যে নিয়ে যান। এ সময় আরও দুজন সেখানে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
মেহেদী হাসান জানান, দুর্বৃত্তরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তার হাত-পা একসঙ্গে বেঁধে ফেলে। যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড খুলে আলাদা করে তার দুই পকেটে রেখে দেয় এবং চিৎকার করলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর তার চিৎকার শুনে আশপাশের পথচারী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি সড়কে ফিরে এসে রিকশাচালককে আর খুঁজে পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের ওই নির্জন এলাকায় কয়েক বছর আগেও নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাই হতো। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সেখানে একটি পুলিশ ছাউনি স্থাপন করা হয়। একসময় সেখানে রাতে নিয়মিত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও গত কয়েক বছর ধরে ছাউনিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। এমনকি নিয়মিত পুলিশি টহলও নেই।
কঞ্চিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী রাজু সরকার বলেন, আগে এ সড়কে রাতে ডাকাতি-ছিনতাই নিয়মিত ঘটনা ছিল। পুলিশ ছাউনি স্থাপনের পর কিছুদিন রাতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেখানে পুলিশ থাকে না।
তিনি বলেন, পুলিশের কার্যকর ভূমিকার অভাবে একই এলাকায় গত বছর কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সবুর রহমানের একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কিছুদিন আগে মদনের পাড়ার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাউনিতে রাত ১২টা পর্যন্ত নিয়মিত পুলিশ দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে থাকায় ফোন ধরেন উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদ আলী। তিনি বলেন, ওসি সাহেব ছুটিতে আছেন। বিষয়টি তাকে জানানো হবে।
পুলিশ ছাউনিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই এরশাদ আলী বলেন, তিনি চার মাস আগে ফুলছড়ি থানায় যোগ দিয়েছেন। ওই ছাউনিতে নিয়মিত পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন এমনটা তিনি দেখেননি। ধারাবাহিকতা না থাকায় হয়তো নিয়মিত ডিউটি দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি টহল গাড়ির সংকটসহ পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও জানান তিনি।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় ওই সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পুলিশ ছাউনিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ
