খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে আয়োজনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে (৩৮) ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের থলিপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, থলিপাড়া এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে কিশোরীর জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে দেখা যায়, তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছরের একটু বেশি।
পরে বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধ স্বীকার করায় কিশোরীর বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পাত্র ও উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী শামীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজনের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে এবং মেয়ের বাবাকে আইনের আওতায় এনে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাল্যবিয়ের আয়োজন বা এ ধরনের কোনো খবর পাওয়া গেলে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। এর আগে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
মোহাম্মদ শাহজাহান/এসএইচএ
