বিজ্ঞাপন

এসডিজি ভিলেজ হিসেবে মিতিঙ্গাছড়ির উদ্বোধন, উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা

এসডিজি ভিলেজ হিসেবে মিতিঙ্গাছড়ির উদ্বোধন, উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা

‎রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করেন তিনি।

দেশের অন্য দুটি গ্রাম হলো খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।

‎মিতিঙ্গাছড়িকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে নির্বাচিত ও উদ্বোধন করায় গ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা কমার পাশাপাশি গ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

‎মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা অংচেপ্রু মারমা বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। দেশের মাত্র তিনটি গ্রামের মধ্যে আমাদের গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি।

‎কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, এটি সমগ্র কাপ্তাইবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এসডিজি প্রকল্পের আওতায় মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, দেশের তিনটি গ্রামের মধ্যে কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচিত করা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। এ উদ্যোগের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

‎এদিকে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। প্রাকৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মিতিঙ্গাছড়ির পরিবর্তে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। 
‎এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৭টি লক্ষ্যকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আওতায় দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মিতিঙ্গাছড়ির মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। একই সঙ্গে দুর্গম এই পাহাড়ি গ্রামের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎মোস্তফা কামাল রাজু/এসএইচএ