বিজ্ঞাপন

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলের ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই পেল জিপিএ-৫

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলের ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই পেল জিপিএ-৫

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আবারও চমক দেখিয়েছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ৩৮২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালে ৩২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাশসহ সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছিল। 

এছাড়া ২০২৪ সালে ২৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৯৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২০২৩ সালে ২৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৭০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। শতভাগ পাসসহ ২০২২ সালে ২৬৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছিল এবং ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। তার আগের বছর ২০১৭ সালে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘৩৮২ জন থেকে ৩৮২ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এন কে এম হ্যাকার। এন কে এমের ওপর কোনো স্কুল নাই বাংলাদেশে। আমরা খুবই আনন্দিত, আমরাই সেরা।’

আরেক শিক্ষার্থী তাজরিয়ান হোসেন মুন বলেন, বাবা-মা ও শিক্ষকদের পরিশ্রমের কারণেই এই ফলাফল। তিনি কোনো ক্লাস, পরীক্ষা বা মডেল টেস্ট বাদ দেননি। নিয়মিত চর্চার ফলেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান বরাবরই ভালো ফলাফল করে আসছে। এবার শতভাগ পাসের পাশাপাশি শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে আশা করছি, আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব।’

তিনি বলেন, ‘নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সবসময় চেয়েছি, সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত হোক। যাতে সমাজে শুধু সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।’

তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ- পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। ভালো ফলাফলের জন্য এই চার পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘ভালো ফলাফলের মূলমন্ত্র হলো পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আমাদের মূল প্রেরণা প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সঠিক দিকনির্দেশনায় আমাদের এ সাফল্য অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করেন। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও দেশসেরা সাফল্য অর্জন করে আসছি।’

আমিনুর রহমান সাদী/এমএমবি

বিজ্ঞাপন