বিজ্ঞাপন

সৌদিতে আগুনে পুড়ে মৃত্যু

মেয়ের এসএসসি পাসের খবর জানা হলো না বাবার

মেয়ের এসএসসি পাসের খবর জানা হলো না বাবার

‘ছয় বছর পর দেশে আসার কথা ছিল আগামী শুক্রবার। বিদেশে যাওয়ার পরে একবারও দেশে ফেরেননি। দেশে ফিরে দুই মেয়ের একসঙ্গে বিয়ে দেওয়ার আশা ছিল। এক মেয়ে আজ এসএসসিতে পাস করেছে। কিন্তু মেয়ের খুশির খবর শুনতে পেল না আমার স্বামী।’

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রামে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবের রিয়াদের মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝির স্ত্রী রশিদা বেগম।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে পরিবারের বাকি সদস্যের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃতের পরিবারের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তার মরদেহ দেশে আনা হোক। ২০১৯ সালে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জামিয়েছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝি। পরিবার ছেড়ে প্রবাস জীবনের ছয় বছরের মাথায় দেশে ফেরার কথা ছিল তার। তার সংসার জীবনে তিন মেয়ে রয়েছে। তার মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর দুই মেয়ে লেখাপড়া করছে।

শ্যামল উদ্দিন মাঝির স্ত্রী রশিদা বেগম বিবি বলেন, আগামী শুক্রবারে আসার কথা দেশে। তাই গতকাল জামাইয়ের সঙ্গে কথা হয় তার। রাত ৩টার দিকে কল দিতে বলেছিল। কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর কিছুক্ষণ পর খবর আসে আগুনের। জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। আমরা চাই সরকার দ্রুত তার মরদেহ দেশে এনে আমাদের দিলে ভালো হয়। আমার তিন মেয়ে। তাদের নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব।

তিনি বলেন, আত্মীয় স্বজনের ঋণ আছে। ২০১৯ সালে ৭ ডিসেম্বর ঋণ করে সৌদি আরাব গিয়েছিল। বিদেশে যাওয়ার পরে একবারও দেশে আসেনি। একবারে দেশে আসার কথা ছিল তার। দেশে এসে দুই মেয়ের বিয়ে দেবেন এমন আশা ছিল। এর মধ্যে মেজ মেয়ে সাদিয়া এসএসসি পাস করেছে। ঝিড়রা হাই স্কুল থেকে জিপিএ-৪ পেয়ে পাস করেছে। মেয়ের স্বপ্ন ছিল বাবাকে রেজাল্টের কথা জানাবে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।  

মৃতের জামাতা মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে কথা হয়েছিল আমার সঙ্গে। তিনি আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আগামী শুক্রবার বাসায় আসার কথা ছিল। তাই সব কাগজপত্র রেডিও করেছিলেন। শাশুড়ি ৩টার দিকে কল দিয়েছিল। তখনই আগুন লেগেছিল।

বাগমারা উপজেলার ১২ নম্বর ঝিকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, মৃতের জামাই আমাদের এখানে এসেছিল। তারা চাচ্ছে দ্রুত যেন নিহতের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। আমরাও চাই সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ নিয়ে এসে পরিবারকে দেয়।  

বাগমারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমি মৃতের বাসায় যাব।

শাহিনুল আশিক/আরকে