ফেনী-বিলোনিয়া স্ট্যান্ডার্ড টু লেন সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং নকশা অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় প্রায় অর্ধশতাধিক বাসিন্দা পরশুরাম উপজেলার সলিয়া থেকে চিথলিয়া এলাকা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, পাথর, রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নকশা অনুযায়ী গাইডওয়াল বা গার্ডওয়াল নির্মাণ না করেই কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগের সড়কের পিচ না তুলে কাজ করা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা অপসারণ না করে নির্মাণকাজ এবং সড়কের বিভিন্ন অংশে একসঙ্গে খোঁড়াখুঁড়ি করায় যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, কাজের মান নিয়ে বারবার আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা সরাসরি নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনী-বিলোনিয়া সড়ক দুই লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১ জুলাই কাজ শুরু হয়। প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা ব্যয়ের পুরো প্রকল্পটি তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পরশুরাম অংশে একটি কার্যাদেশের আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, সড়ক নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের ও মরিচা ধরা রড, সিমেন্ট এবং ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা অপসারণ না করেই অপরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে একই সময়ে খোঁড়াখুঁড়ি করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
সলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গাজী ইউসুফ বাপ্পি বলেন, নকশা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল বা গার্ডওয়াল থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা ছাড়াই কাজ করা হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে আগামী বর্ষা মৌসুমেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় ছাড়া মানুষের কোনো উপকার হবে না। বাধ্য হয়ে সড়কের কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
কাজের সঠিক তদারকি না থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পেয়ার আহমেদ নামে এক বাসিন্দা বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে তদারকির জন্য মাঠে দেখা যায় না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো মানহীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর থেকে ফুলগাজী হয়ে পরশুরাম-বিলোনিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক আধুনিক, নিরাপদ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনটি কার্যাদেশে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট বা ৫ দশমিক ৫০ মিটার। সড়কটি উভয়পাশে আরও ৪ দশমিক ৮০ মিটার করে বাড়িয়ে মোট ৩৪ ফুট বা ১০ দশমিক ৩০ মিটার চওড়া করা হচ্ছে।
ফেনী-বিলোনিয়া সড়কের দুই পাশে কাজীরবাগ, মজিদ মিয়ার বাজার, বন্দুয়া, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট, ফুলগাজী ও পরশুরামসহ অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিলোনিয়া স্থলবন্দরে যাতায়াত এবং পুরো অঞ্চলের বাসিন্দাদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে তদারকি জোরদার করে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, নিম্নমানের যে ইটগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মূল নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য নয়। পানি কিউরিংয়ের কাজের জন্য সাময়িকভাবে ওই ইটগুলো সেখানে আনা হয়েছে। এ ছাড়া কাজের শিডিউল ও নকশা অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত ও যথাযথ নজরদারি করা হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
তারেক চৌধুরী/এমএসএ
