তিন বছর ধরে মুখগহ্বরের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন ঝালকাঠির সদর উপজেলার গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দেউলকাঠি গ্রামের গৃহবধূ পারভিন বেগম (৪৫)। চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব খরচ করে এখন নিঃস্ব পরিবারটি। চারটি কেমোথেরাপি সম্পন্ন হলেও অর্থের অভাবে পরবর্তী চিকিৎসা থমকে আছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও তিনটি কেমোথেরাপি প্রয়োজন। চিকিৎসা ব্যাহত হলে রোগের অবস্থা আরও জটিল হয়ে জীবনঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
২০২৩ সালে পারভিন বেগমের মুখের বাম পাশের গালের ভেতরে (লেফট বুকাল মিউকোসা) ক্যান্সার ধরা পড়ে। প্রথমে ঝালকাঠি, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত চারটি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর তার পরবর্তী কেমোথেরাপির তারিখ নির্ধারণ করেছেন চিকিৎসক।
পারভিনের স্বামী মো. জাকির হাওলাদার একজন দিনমজুর। পাঁচ সদস্যের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণ করেছেন, বিক্রি করেছেন সংসারের অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এখন বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই।
চিকিৎসকরা পরিবারটিকে জানিয়েছে কেমোথেরাপি ব্যাহত হলে রোগটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে আশপাশের টিস্যু, চোয়াল ও ঘাড়ের লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া, কথা বলা ও মুখ খোলা কঠিন হয়ে যেতে পারে। পরে ব্যথা, মুখে ক্ষত, রক্তপাত, দুর্গন্ধ, ওজন কমে যাওয়া এবং অপুষ্টির মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এক পর্যায়ে রোগটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জাকির হাওলাদার বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে করাতে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। চারটি কেমোথেরাপিতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকার বেশি ওষুধ কিনতে হয়। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আরেকটি কেমো দিতে হবে। কিন্তু সেই টাকা জোগাড় করার কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে সমাজসেবা কার্যালয়ে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি। এখন মানুষের সাহায্য ছাড়া চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
পারভিনের ভাই মোহাম্মদ মানিক হাওলাদার বলেন, আমরা আত্মীয়-স্বজন মিলে যতটা পেরেছি সহযোগিতা করেছি। কিন্তু ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিটি কেমোথেরাপিতে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা লাগে। আমার বোনকে বাঁচাতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।
প্রতিবেশী খায়রুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন মানুষের সহযোগিতা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।
দেউলকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবি আক্তার বলেন, পারভিনের চিকিৎসা যেন বন্ধ না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহায়তা পেলে হয়তো তিনি আবার সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এখন চিকিৎসা থমকে আছে। পরিবারের একটাই আবেদন, দ্রুত আর্থিক সহায়তা পেলে পারভিনের বাকি কেমোথেরাপি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং তার সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে নেওয়া যাবে।
পারভিন বেগমের বিকাশ নম্বর ০১৭৯৯৯১১২৪
মো. শাহীন আলম/এএমকে
