বিজ্ঞাপন

মিঠাপুকুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস

অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (তহসিল অফিস) অফিস সহায়ক শ্রীমতী রিনা রানী দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন, নথি জালিয়াতি ও নামজারি (খারিজ) বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর একই অফিসে কর্মরত থাকার সুবাদে ১৬টি মৌজার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিবরণ তুলে ধরে রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রফিকুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিনা রানী সি.এস, এস.এ ও আর.এস খতিয়ানের মূল ভলিউম বই ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রেখে পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সেবাগ্রহীদের তা সরবরাহ করেন। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১৭০ টাকার নামজারি ফি-এর স্থলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ফাইল প্রসেসিং বাবদ আরও ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত দাবি করেন। ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২ হাজার টাকা আদায় করে গ্রাহককে মাত্র ৫২ টাকার রসিদ প্রদান, ভুয়া নোটিশ জারি, অফিসের গোপনীয় নথি টাকার বিনিময়ে সরবরাহ এবং নিজের স্বামীর মাধ্যমে দলিল সংক্রান্ত কাজ করার জন্য সেবাগ্রহীতাদের চাপ দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শতভাগ সত্য। আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভূমি অফিসে গেলে পদে পদে হয়রানির শিকার হই। রিনা রানী দেবনাথ দীর্ঘ ১৩ বছর একই টেবিলে থেকে পুরো সেবা ব্যবস্থা জিম্মি করে ফেলেছেন। আমার কাছ থেকেও বহু টাকা নিয়েছেন ওই কর্মচারী। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমতী রিনা রানী দেবনাথ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, আমাকে এখান থেকে সরানোর জন্য অনেকে নানাভাবে লেখালেখি করছেন। আপনারা নিজেরাই অভিযোগ দিয়ে আমাকে সরাই দেন। ডিসি স্যার আমাকে মৌখিকভাবে এখানে রেখেছিলেন। আমি ১৩ বছর ধরে আছি নাকি সাড়ে তিন বছর, তা আমার অফিস ভালো জানে। আমি অভিযোগকারী রফিকুলকে চিনি না। এগুলো কোনো মেহুরি চক্রের কাজ।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান জানান, এই বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। এবং জেলা প্রশাসক স্যার বরাবর কোন অভিযোগ গিয়েছে কিনা সে বিষয়েও আমি অবগত নই। অভিযোগ হয়ে থাকলে, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, একটি লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে