খাগড়াছড়ি-লংগদু সড়কের আটারকছড়া এলাকার তেতুলতলায় মাত্র কয়েক মিটার সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
সড়কের দুই পাশে থাকা জমি সড়কের তুলনায় উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় সড়কের ওই অংশটি কাদাপানিতে ডুবে থাকে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন খাগড়াছড়ি-লংগদু সড়কের আটারকছড়া এলাকার তেতুলতলায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একটি অংশে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে রয়েছে। কোথাও কাদায় পরিণত হয়েছে সড়ক। পানি ও কাদার কারণে বিশেষ করে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সড়কের পিচ উঠে কয়েকটি স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লংগদু উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের তেতুলতলা অংশে প্রতিবছরই একই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সড়কের দুই পাশের জমি উঁচু থাকায় বৃষ্টির পানি ও আশপাশের পানি সড়কের ওপর জমে থাকে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের স্থায়িত্বও কমে যায়। সংস্কার করার কিছুদিনের মধ্যেই পিচ উঠে গিয়ে আবারও গর্ত তৈরি হয়।
সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেলচালক মো. ইকবাল বলেন, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য এটি একমাত্র পথ। মাত্র কয়েক মিটার জায়গা পানিতে তলিয়ে থাকলেও পুরো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে। পানি জমে থাকার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে গর্ত তৈরি হয়। মানুষের চরম ভোগান্তি হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর।
আটারকছড়া এলাকার ইউপি সদস্য জোতিন চাকমা বলেন, তেতুলতলা এলাকায় একটি উঁচু করে কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন। সড়কের দুই পাশের জমি সড়কের চেয়ে উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ নেই। বছরের প্রায় পুরো সময়ই এখানে পানি জমে থাকে। কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি প্রায় ১০০ মিটার সড়ক উঁচু করে দিলে এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও স্থায়ীভাবে এর সমাধান হচ্ছে না। বর্ষা এলেই সড়কের ওই অংশে পানি জমে যায় এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় মোটরসাইকেল চালকদের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তেতুলতলা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, একটি উঁচু কালভার্ট নির্মাণ এবং সড়কের নিচু অংশ উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কয়েক মিটার সড়কের স্থায়ী সমাধান করা গেলে লংগদু উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও নির্বিঘ্ন হবে।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার সড়কটির দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, তেতুলতলা এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলে সেখানে কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে সড়কটির নিচু অংশ উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক উঁচু করার কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বর্ষাকালে তেতুলতলায় পানি জমে থাকার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। এতে লংগদু উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগও কমবে।
মোহাম্মদ শাহজাহান/এএমকে
