বিজ্ঞাপন

তিন কোটি টাকার ভবন

৯ শিক্ষকের এক পরীক্ষার্থী, সেও ফেল

৯ শিক্ষকের এক পরীক্ষার্থী, সেও ফেল

যশোরের মণিরামপুরের হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা একটি ভবন। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে ৯ জন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জনেরও কম। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে সেও অকৃতকার্য হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে জানা যায়, শুধু হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় নয় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এই উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়নি। এর মধ্যে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় দুটি ও দাখিল মাদরাসা পাঁচটি রয়েছে। 

শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদরাসা, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদরাসা, নেহালপুর দাখিল মাদরাসা ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদরাসা। এর মধ্যে ইত্যা, পাড়দিয়া ও নেহালপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত নন। তারা সরকারি কোনো বেতন-ভাতা পান না।

হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘এবার আমাদের রেগুলার কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল না। উর্মি মণ্ডল নামে এক ছাত্রীর আগে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন করা ছিল। গেল বছর পরীক্ষা দেয়নি। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে গণিতে ফেল করেছে। আমাদের সাবেক প্রধান শিক্ষক গণিত পড়াতেন। ৮-৯ মাস আগে তিনি চলে গেছেন। এরপর আর গণিতের শিক্ষক আসেনি। করোনার পর থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দিয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ১৭ জন, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে চারজন, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন, নেহালপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদরাসা থেকে চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি।

সরেজমিন চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পাশের চারটি কক্ষে ১৬ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে। যার মধ্যে ১০ম শ্রেণিতে একজন, ৮ম শ্রেণিতে একজন, ৭ম শ্রেণিতে চারজন ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে দশজন শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। আর নবম শ্রেণিতে একজনও শিক্ষার্থী নেই। এ শ্রেণির দুইজন শিক্ষার্থী মাছ ধরার ছুটি নিয়ে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

শতভাগ ফেলের বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন, আমার বিদ্যালয় থেকে এবার তিনজন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। যারমধ্যে একজন নিয়মিত ও দুইজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী। তাদের কেউ পাস করতে পারেনি।

সুজিত বালা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এখানে শিক্ষক কর্মচারীর অভাব নেই। বছরের বেশিরভাগ সময় স্কুল মাঠে পানি জমে থাকে। অনেকসময় পানি শ্রেণিকক্ষে জমে থাকে। বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা এখানে সন্তান পাঠাতে চান না।

শতভাগ ফেল মণিরামপুরের পাঁচটি মাদরাসার মধ্যে নেহালপুর দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেছেন, ছয় ছেলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারেনি। আমরা বেতন পাই না। এজন্য শিক্ষকরা ক্লাসও নিতে চান না।

মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাফফার হোসেন বলেন, এর মধ্যে তিনটি মাদরাসার এমপিও নেই। বাকি চার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেজওয়ান বাপ্পী/আরকে