মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি সীমার মধ্যে থাকতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে আমরা সবাই বলি। তবে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, এর একটি সীমা থাকতে হয়। তাই গুজব প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহারের চেয়ে সামাজিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। কারণ সমাজে যা আছে সেটিই তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আসছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘রংপুর শহরে মোবাইল টাওয়ারের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড- ইএমএফ রেডিয়েশন পরিবীক্ষণ জনসচেতনতা ও সেবার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এমদাদ উল বারী বলেন, এখন এআই দিয়ে অনেক ভিডিও হচ্ছে। আমরা ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নানা এআই ভিডিও দেখেছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও ভুয়া ভিডিও আমাদের ফেস করতে হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি শঙ্কা ছিল ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করা হয় কি না। কারণ নির্বাচনকালীন ওই সব ভিডিও সাধারণ মানুষের মাঝে বড় প্রভাব ফেলে। কিন্তু এক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা।
তিনি বলেন, আমরা ভয় পেয়েছিলাম মিথ্যা ভিডিওকে মানুষ বিশ্বাস করে, পরে দেখলাম সত্য ভিডিওকেও মানুষ বিশ্বাস করছে না। কারণ মানুষ সোস্যাল মিডিয়া থেকে অনেক কিছু শিখেছে। তাই বাস্তবতা হচ্ছে সমাজের গুজব প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্ধ করার চেষ্টা অব্যহত থাকবে, হয়তো আমরা কখনোই তা বন্ধ করতে পারব না। গুজব প্রতিরোধে সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিটিআরসির মহাপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক মেরিনা লাভলী, রংপুর চেম্বারের পরিচালক পার্থ বোস, জাতীয় ছাত্রশক্তি রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতিসহ অন্যরা।
সভায় রংপুরে নেটওয়ার্কিং সমস্যা, রেডিয়েশনের ফলে প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি, ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়নে নানা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরকে
