বিজ্ঞাপন

১১ শিক্ষকের ৭ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

১১ শিক্ষকের ৭ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

সাতক্ষীরা শহরের সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সাতজন শিক্ষার্থী। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য।

গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত নতুন ভবন, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দে নির্মিত হয়েছে একাধিক স্থাপনাও। তবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি নেই বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুর রহমান বলেন, স্কুলটি মূলত একটি নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৭০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এখানে মূলত রাতে ক্লাস হয়। দরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

তিনি বলেন, এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী দিনের বেলায় বিভিন্ন দোকান, প্রতিষ্ঠান ও নানা কাজে যুক্ত থাকে। সারাদিন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাদের পক্ষে নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। দিনের বেলায় যারা কাজে ব্যস্ত থাকে, তাদের রাতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

মমিনুর রহমান আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়ে ফেল করার কোনো রেকর্ড নেই। প্রতিবছর ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষার্থী পাস করে। কিন্তু এ বছর কর্মব্যস্ততার কারণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই একটি বিষয়ে ফেল করেছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এবারের ফলাফল আমাদের জন্য হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে কেউ ফেল করেনি। এবারই প্রথম এমন ফলাফল হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় ২৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

ইব্রাহিম খলিল/আরএআর