মানবতার সেবায় একবেলা খাবার ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে খুলনায় পথশিশু, এতিম ও অসহায় মানুষের জন্য প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নগরীর শিববাড়ি কেডিএ মিনি কমিউনিটি সেন্টারে এই প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক সংগঠন ‘খুলনা ব্লাড ব্যাংক’ ও ‘খুলনা ফুড ব্যাংক’-এর যৌথ উদ্যোগে এই মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল আলম মনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মো. সালেহ্ উদ্দিন।
‘একবেলা খাবার, একটু হাসি, একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খুলনার প্রায় চার শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মাঝে মানসম্মত দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।
খালিশপুরের বাসিন্দা জালাল হোসেন বলেন, ভালো খাবার খেয়েছি। বিরিয়ানি, দধি, ডিম খেয়েছি। দোয়া করি তারা যেন সবসময় আমার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
বৃদ্ধা হারিছুন খাতুন বলেন, মজা করে খেয়েছি। ভালো লেগেছে। দোয়া করেছি।
দিনমজুর লাকি বেগম বলেন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। বহুদিন পর ভালো খাবার খেলাম। এ রকম খাবার সহজে খেতে পারি না। দোয়া করি এমন আয়োজন যেন বার বার করতে পারে।
সেকেন্দার মুন্সি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ পেট ভরে খেয়েছি। আয়োজকদের ধন্যবাদ।
আয়োজক কমিটির সদস্য শেখ আসাদ বলেন, আমরা বাসায় গিয়ে তাদেরকে দাওয়াত করে এনে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই মানুষগুলোর তৃপ্তি অনন্য। খাওয়াতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। খাবার প্রত্যেকেই বাসায় খায়, তবে এই পরিবেশে এবং ভালো খাবার খেয়ে তাদের মুখ দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে। ৪ শতাধিক মানুষকে খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনা ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মো. সালেহ্ উদ্দিন সবুজ বলেন, সমাজের ছিন্নমূল-ভাসমান মানুষ আছে, তারা কখনো টেবিল চেয়ারে বসে আপ্যায়নের মতো খেতে পারে না। বৃত্তবানরা যেভাবে হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে পারে, সেভাবে এই মানুষগুলো খেতে পারে না। তাদেরকে সেই ফিলটি দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ। খুলনা ফুড ব্যাংক এবং ব্লাড ব্যাংক সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। ইনশাল্লাহ এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কেডিএর চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, খুলনা ব্লাড ব্যাংক এবং ফুড ব্যাংক এই আয়োজনে কেডিএর পক্ষ থেকে হলটি বিনা পয়সায় দিয়েছি। তারা অসহায়, দুস্থ মানুষ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য একবেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে। এই কাজে নগরীর সকল মানুষকে এগিয়ে আসা উচিত। এভাবে সমাজ যদি এগিয়ে আসে, ভবিষ্যতে আমাদের মধ্যে কোনো ক্ষুধার্ত লোক থাকবে না।
মোহাম্মদ মিলন/আরএআর
