বিজ্ঞাপন

রাঙামাটিতে ডিবির হাতে সাংবাদিক ও ছাত্রদল নেতা আটক

রাঙামাটিতে ডিবির হাতে সাংবাদিক ও ছাত্রদল নেতা আটক

রাঙামাটিতে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। 

‎মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি শহরের পৃথক স্থান থেকে সাদাপোশাকে থাকা ডিবির সদস্যরা তাদের আটক করে ঢাকায় নিয়ে গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‎রাঙামাটি জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সায়রা চন্দ্রা চাকমার করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলী আকবর সুমনকে আটক করতে রাঙামাটিতে আসে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে এবং শহরের অন্য একটি স্থান থেকে আলী আকবর সুমনকে আটক করা হয়।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরেন। এ সময় সড়কের পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়ানো ছিল। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তাকে ওই গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও তাকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরে গাড়িতে তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

‎অন্যদিকে, আলী আকবর সুমনকে শহরের ঠিক কোন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে, তা  নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও আলী আকবর সুমনকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে। 

‎পুলিশ সুপার বলেন, ডিএমপির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সায়রা চন্দ্রা চাকমার করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলী আকবর সুমনকে আটক করা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগে আলী আকবর সুমনের নাম থাকলেও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। দুজনকেই ডিএমপির ডিবি পুলিশ ঢাকায় নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

‎এ বিষয়ে রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাদাপোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। বিষয়টি জানার জন্য তারা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

‎পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটকের পর সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও আলী আকবর সুমনকে ঢাকায় নিয়ে গেছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। তবে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিস্তারিত এবং আটকের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানা যায়নি।

মোস্তফা কামাল রাজু/এনটি

বিজ্ঞাপন