বিজ্ঞাপন

ভবন-শ্রেণিকক্ষহীন মাদরাসার ২২ পরীক্ষার্থী, দাখিলে পাস করেনি কেউ

ভবন-শ্রেণিকক্ষহীন মাদরাসার ২২ পরীক্ষার্থী, দাখিলে পাস করেনি কেউ

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনীয়া বালিকা দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২২ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর মাদরাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নেই কোনো ভবন বা শ্রেণিকক্ষ, এমনকি নেই মাদরাসার সাইনবোর্ডও।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও সেখানে মাদরাসার ঘর থাকলেও এখন আর তার কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে মাঠটিতে এখন স্থানীয়দের গবাদিপশু ঘাস খায়।

স্থানীয় সোবহান মিয়া বলেন, এক সময় এখানে দুটি ঘর ছিল। কিন্তু এখন এগুলো আর কিছুই নেই। মাঝে মধ্যে দুই একজন এসে জায়গাটি দেখে যায়। তবে এখানে বালিকা মাদরাসা হলে এলাকার জন্য ভালোই হবে। আমরা মাদরাসাটির যথাযথ কার্যক্রম চালু করার দাবি জানাচ্ছি। 

মাদরাসা সুপার মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ২৭ বছর ধরে আমাদের নিজেদের খরচে উপজেলার একমাত্র বালিকা মাদরাসাটি পরিচালনা করে আসছি। মাদরাসা ভবন বা শ্রেণিকক্ষ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বারবার আবেদন করেও এমপিও না হওয়ায় শিক্ষকরাও হতাশ। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ভিন্ন কাজ করে দিনাতিপাত করছেন। আর সেখানে ঘরগুলো ভেঙে গেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের অন্যত্র পড়াশোনা করাই। 

কোথায় ক্লাস নেন জানতে চাইলে মাদরাসা সুপার বলেন, নির্দিষ্ট নেই। অনেক সময় পরীক্ষার আগে আমার বাসায় কিনবা যে কোনো লোকেশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ২০০৮ সাল হতে পাঠদানের অনুমতি পাই, এরপর হতে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এবার হঠাৎ ২২ জন ছাত্রী অকৃতকার্য হয়। এর মধ্যে ১১ জনই গণিতে। আমরা গণিতের ওপর আরও জোর দেব।  

সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক জিহাদ হাসান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিএ পেতে প্রথমদিকে অনেক আগ্রহ নিয়ে পথচলা শুরু করলেও পরে হাপিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসিনতা রয়েছে, যার কারণে ঘর নেই সেটাও কাগজে কলমে বড় প্রতিষ্ঠান। 

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রেজুয়ান বলেন, ময়মনসিংহ বোর্ডে এবার অপ্রত্যাশিতভাবে শেরপুর জেলা খারাপ রেজাল্ট করেছে। আর যে কয়েকটি মাদরাসায় কেউ পাস করেনি সেগুলো মূলত ননএমপিও। আর তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানো হয় না। আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য আমরা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

আরকে