‘একজন পালে আওয়ামী লীগ, যেখানেই টাকা সেখানেই আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। বিএনপি থেকে যদি এদেরকে বের করে দেওয়া হয়, তাহলে পিরোজপুরের মাটিতে তাদেরকে কেউ একটি সালামও দেবে না।’
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক স্মরণসভায় পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন এসব কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় পিরোজপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা কোনো আয়োজন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদ হাসান শাহীন বলেন, আজ যার স্মরণসভা, সেই গাজী নুরুজ্জামান বাবুল দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী দলের তিনি একজন অভিভাবক ছিলেন। এই দলের জন্য তিনি কী না করেছেন, জেল খেটেছেন, , বুক চিতিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়, আজ বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তিনি আমাদের মাঝে নেই। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদের আয়োজনও করা হয়নি। এটা সত্যিই দুঃখের।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা কোটিপতি হওয়ার চিন্তা করছেন, যারা অফিস আদালতে দৌড়াচ্ছেন, গাজী নুরুজ্জামান বাবুলই আপনাদের বিএনপি করা শিখিয়েছেন। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তার জন্য আপনারা কেউ একটি মিলাদের আয়োজন করেননি। তিনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে ৫ আগস্টের পর সিনিয়র নেতৃবৃন্দের যে আচরণ দেখছি, সেগুলো আর দেখতে হতো না। আমাদের মধ্য থেকে কেউ মারা গেলেও মনে হয় না পিরোজপুরের বিএনপি একটি মিলাদ করবে।
এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, পিরোজপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন বা দলের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজন করা হবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুস সালাম বাতেন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন টিপু, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে এম সাখাওয়াত হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহ শহীদ এবং প্রয়াত গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের ছেলে গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র।
আলোচনা শেষে গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, গাজী নুরুজ্জামান বাবুল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দক্ষিণ উপকূল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
আরএআর
