বিজ্ঞাপন

বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফার মৃত্যু

বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফার মৃত্যু

বরিশালের বাকেরগঞ্জে রহস্যজনক বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম (৫০) মারা গেছেন। ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি তার স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। হনুফা বেগমের মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত ৩ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফা বেগমের মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগমের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, হনুফা বেগমের জামাতা সুজনের মাধ্যমে তিনি তার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার ব্যয় জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ বরিশালে ফিরিয়ে আনার খরচও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।

তিনি বলেন, গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখতে পান তিনি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ইতি ও ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে ঘটনার পর বাকেরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। 

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র সরকার বলেন, বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি।  রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন।

আরিফ হোসেন/আরএআর