গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে ঘটনায় ‘ফ্যাসিস্ট-জামায়াতের’ লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার।
তিনি বলেন, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি দলের নজরে এলে নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ে যান।
আব্দুস সালাম সরকারের দাবি, সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ফ্যাসিস্ট অথবা জামায়াতের লোকজন যাদের তারা চিনতে পারেননি, অতর্কিতভাবে ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপি, যুবদল বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যারা ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিএনপিও ভূমিকা রাখবে।
তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেছ। মুঠোফোনে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “তাদের দাবির বিষয়টি শতভাগ মিথ্যা।”
তিনি বলেন, ইউএনও কার্যালয়ে কারা ভাঙচুর করেছে সেটা সবাই জানেন। ফুটেজ ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এমপি।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রমের জন্য যত জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আবেদনকারী ছিলেন। তাদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, গতকাল ও আজকের সারাদিনের পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, কারও সংবাদ সম্মেলন করা তাদের নিজস্ব বিষয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে আমরা অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিকভাবে অফিস করেছি। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল বা আজকে সকালে হয়ত তারাই তালা খুলে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফুলছড়ি ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অঅনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ১টার উপজেলা চত্বরে নিয়োগের প্রকাশিত ফলাফল বাতিলের দাবি করে বিক্ষোভ করা হয়। পরে একপর্যায়ে উপজেলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার-টেবিল, ফুলের টব ও জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভাঙচুরের সময় ফুলছড়ি উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে ছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুবদল ও ছাত্রদল।
অন্যদিকে, একই অভিযোগে সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ফেসবুক পোস্টে পরদিন ইউএনও কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাইবান্ধা জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান আরিফ। ওই কর্মসূচি থেকেই গতকাল ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এদিকে, একই নিয়োগের অভিযোগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা লাগান উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিয়োগের বিষয়ে নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তালা বন্ধ রাখার কথা জানান তারা।
মাসুম বিল্লাহ/এমএমবি
