নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ি এলাকায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শামীমকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইসার আহমেদের বিরুদ্ধে। তবে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করতে না পারার দাবি করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়েছিল। গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহমুদ মোরশেদ শাহেনশা।
জানা গেছে, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আহমেদ মাস্টার বাড়ি এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে। তিনি বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মায়ের দাওয়াতে ছেলে শামীম বাসায় আসবে। তখন রামপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ মোট তিনজন মাস্টার বাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয় এবং বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, আসামিকে নিয়ে এক কিলোমিটার যাওয়ার পর মুন্সিপাড়া গ্রামে বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তারা চেষ্টা করে ও ব্যারিকেড দিয়ে তাকে আটক করতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম মিয়া জানান, পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে, পরে ছেড়ে দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই দেখেছেন। তার বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং এক থেকে দেড় কিলোমিটার যাওয়ার পর মুন্সিপাড়া এলাকায় তাকে ছেড়ে দেয়। সেখানে বিএনপি নেতারা তাকে ছেড়ে দিতে সাহায্য করে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহমুদ মোরশেদ শাহেনশা বলেন, তাকে ১২টার দিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, আবার থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে। কিসের জন্য ধরলো, কিসের জন্য ছাড়লো বুঝলাম না। কিন্তু যুবদলের মিজান নামে একটা ছেলে তাকে ছুটিয়ে আনতে গেছে। শুধু এটুকু জানি। আর কিছু জানি না।
তবে মিজানের সঙ্গে কথা বললে তিনি অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ কম।
রামপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাইসার আহমেদ বলেন, সংবাদ পেয়েছি শামীম বাসায় আসবে, তাই আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু তাকে ধরতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করেছি, দৌড়ে পালিয়ে গেছে। আমরা ব্যারিকেড কেটে দিয়েছিলাম ধরার জন্য। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল রেখেই পালিয়ে গেছে সে।
মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, শামীমের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলা রয়েছে। তাকে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সত্য হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমিনুর রহমান সাদী/ এনটি
