গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লাসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার রুল জারির তিনদিন পর জেলার অবৈধ ইটভাটা ভাঙতে শুরু করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে পলাশবাড়ি উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় শুরু করা অভিযান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ সময় দুটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা ইটভাটা দুটি হলো জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার সাকোয়া ব্রিজ এলাকার আলতা ব্রিকস ও ঢোলভাঙ্গা এলাকার বিবিএফ ব্রিকস।
এ অভিযান পরিচালনা করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান ও রোমেন পাল। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শের আলম, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান সজিব আহমেদসহ পুলিশ, আনসার ভিডিপি ও অস্ত্রধারী ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত রোববার (৯ আগস্ট) গাইবান্ধার অবৈধ ১৭৯ ইটভাটা উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লাসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট গাইবান্ধার অবৈধ ১৭৯ ইটভাটা উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক আবেদনের পক্ষে আদালতে নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। সূত্র জানায়, আদালত অবমাননার দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যম সূত্র আরও জানায়, আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক গাইবান্ধার লাইসেন্সবিহীন ১৭৯ অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে ২০২৪ সালের ৬ মে এই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুল শুনানি শেষে চলতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে ওই ১৭৯ ইটভাটাসহ গাইবান্ধার সব অবৈধ ইটভাটা ৬০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদালত অবমাননার আবেদন করেন আইনজীবী রাজ্জাক। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে আদালত অবমাননার এই রুল জারি করে হাইকোর্ট।
গাইবান্ধার ডিসি ছাড়াও অপর কর্মকর্তা দুজন হলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) লুৎফর রহমান ও রংপুরের বিভাগীয় পরিচালক নুরুল আমিন।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় মোট চালু ইট ভাটার সংখ্যা ১২৫টি। এর মধ্যে অনুমোদিত ইটভাটার সংখ্যা মাত্র ১৬টি ও অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ১০৯টি ইটভাটা।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে আজ দুটি ইটভাটা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
একই কথা বলেন, অভিযানে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শের আলম। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জরিমানা করে এসব ইটভাটা বন্ধ করা যায়নি। এর আগেও কয়েকটি ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো। এ অভিযান অব্যহত থাকবে।
মাসুম বিল্লাহ/ এনটি
