সাপ কামড় দিলে কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। তিনি বলেছেন, সাপে কামড়ানোর পর ওঝা-কবিরাজের কাছে না গিয়ে রোগীকে প্রথমেই হাসপাতালে আনতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে রোগীর জীবন রক্ষায় চিকিৎসা দেওয়া সহজ হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, সাপে কাটলে হাসপাতালে না এসে অনেকে নিজেরা চিকিৎসা করেন কিংবা ওঝার কাছে নিয়ে যান। এতে চিকিৎসা দিতে দেরি হয়ে যায়। সাপে কামড়ানোর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর হাসপাতালে এলে রোগীর জীবন অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে চলে যায়। যদি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসে, তাহলে আমাদের জন্য চিকিৎসা দেওয়া সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন কোনো কিছু কামড় দিলেও সময়ক্ষেপণ না করে হাসপাতালে আসতে হবে। সাধারণত বিষাক্ত সাপ কামড় দিলে দুটি দাঁতের দাগ বসে। এরকম দাগ দেখা গেলেই দেরি করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গেই নিকটস্থ হাসপাতালে আসতে হবে।
সিভিল সার্জন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর মানুষ কিছুটা বেশি সচেতন হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালে আসার প্রবণতাও বেড়েছে। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীর হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। তাই সাপে কামড়ানোর পর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা ওঝা-কবিরাজের চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে আসার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত জুলাই মাসে জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন, পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ৩২ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ১০ জন, কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ১৫ জন সাপে কাটা রোগী এসে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। তবে এই রোগীদের কেউ মারা যায়নি।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/ এনটি
