ভারী বর্ষণ ও প্রবল স্রোতে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও পঞ্চগড় সদর উপজেলার কুচিয়ামোড় এলাকায় মামা-ভাগিনা খালের ওপর স্লুইসগেট সেতুটির স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ শুরু হয়নি। স্থানীয় মানুষের চলাচলের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা কাঠের অস্থায়ী সেতুটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরের ১২ আগস্ট রাতে মুষলধারে বৃষ্টির সময় পানির প্রবল স্রোতে কুচিয়ামোড় স্লুইসগেট সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। একই সঙ্গে সেতুটির একটি অংশ দেবে যায়। স্রোতের তোড়ে সেতুর দুই পাশে থাকা পাঁচটি দোকানও ভেসে যায়। এরপর মানুষের চলাচলের জন্য সেতুটির পাশে কাঠের একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। তবে প্রায় এক বছরেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার সময় পাঁচটি দোকান পানির স্রোতে ভেসে যায়। এর মধ্যে আমার দোকানও ছিল। এক বছর ধরে স্থানীয় মানুষ দুর্ভোগ পোহালেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ভ্যানচালক রফিকুল বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করা যায় না। অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও এ পথে আসতে পারে না। এতে জরুরি মুহূর্তে মানুষ বিপদে পড়ে।
আরেক ভ্যানচালক জরিফুল বলেন, কৃষকদের মালামাল নিয়ে কাঠের সেতু পার হওয়া যায় না। মালামাল নামিয়ে এক পাশ থেকে আরেক পাশে নিতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসিবুর বলেন, বারুনী, অখরাবাড়ি, চৌধুরীহাটসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। কাঠের সেতুটি এখন অনেকটাই নড়বড়ে। রাতে পারাপার হতে আরও বেশি সমস্যা হয়। ভ্যানে লোড করা কোনো যানবাহন সেতু পার হয়ে উঠতে পারে না। অনেক সময় মানুষকে ঠেলে গাড়ি ওপরে তুলতে হয়।
জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকদের সেচসুবিধার জন্য ২০০৪ সালে কুচিয়ামোড় এলাকায় খালের ওপর স্লুইসগেট সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি কুচিয়ামোড়, বন্দরপাড়া ও কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, গত বর্ষায় পানির প্রবল চাপে স্লুইসগেটটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে যায় এবং সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি সমাধানে তারা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকবার ঢাকায় চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ গত এপ্রিলেও বিষয়টি জরুরি উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর দপ্তর থেকে ভালো খবর পেয়েছি। নতুন স্লুইসগেট ও সেতুর ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে এবং অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন স্লুইসগেট ও সেতুর নির্মাণকাজ করা সম্ভব হবে।
নুর হাসান/আরকে
