চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় অমর সরকার (৩৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যার মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. কামাল হোসাইন এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা বেগম।
নিহত অমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর দাস বাড়ির রবি ভক্ত সরকারের ছেলে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক (২১) মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার সুভারিয়া গ্রামের অর্জুন বিশ্বাসের ছেলে। এছাড়াও তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অপর ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত হৃদয় সূত্রধর (২১) মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সারপাড় গ্রামের গোপাল সূত্রধরের ছেলে। এ ছাড়াও তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় হৃদয় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বর্ণের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন অমর সরকার। এ সময় তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম এবং গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। ঘটনার সময় অমরের সঙ্গে তার দোকানের কর্মচারী যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক ছিলেন। ঘটনার পর অনিক অমরের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুর্বৃত্তরা অমরকে হত্যা করে স্বর্ণ ও টাকা নিয়ে গেছে। পরে পুলিশ অমরের মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্তে উঠে আসে, অনিক ও হৃদয় পূর্বপরিচিত ছিলেন। তারা আইপিএল ও বিগ ব্যাশের খেলায় বাজি ধরতেন। এতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সেই ঋণ পরিশোধের জন্য অমরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দোকান থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার পথে নির্জন এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অমরকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি অমরের বাবা রবি ভক্ত সরকার বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি হৃদয় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি জয় বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম বলেন, মামলায় আদালত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন। রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
আনোয়ারুল হক/এমএমবি
