জয়পুরহাটে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। রোদ আর তীব্র ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এর মধ্যেই এক মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপকেন্দ্রগুলো আক্রমণের শিকার হওয়ার শঙ্কায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। চিঠিতে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি এ জেলার পাঁচটি উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে এবং নেসকোর পক্ষ থেকেও তাদের উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় তিন লাখ গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা ৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেকেরও অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। একইসাথে ঢাকা থেকে এ জেলার তিনটি উপকেন্দ্র শালাইপুর, বালিয়াতৈর ও জামালগঞ্জে স্ক্যাডো অপারেশন চালায়। এতে ওই এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা একটু বেশি হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পাঁচবিবির শ্রীমন্তপুরে দুলাল হোসেন নামে এক মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদেরও প্রতিদিন বিদ্যুতের স্বাভাবিক চাহিদা রয়েছে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে তারা পাচ্ছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকায় তাদের আওতাধীন এলাকাগুলোতেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আমজাদ হোসেন বলেন, দিনরাতে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতেই বেশি বিদ্যুৎ যায়। রাতে যখনই ঘুমাতে যাই, বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমাতে পারি না।
নিরাপত্তা চেয়ে চিঠির বিষয়টি স্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, চাহিদার তুলনায় আমরা অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাচ্ছি। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে দোকানপাট, শপিং মল খোলার বিষয় এবং আলোকসজ্জা পরিহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা বাস্তবায়ন করবো। এর প্রেক্ষিতে যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে তাতে আমরা গ্রামাঞ্চলে ঠিকমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবো। আমি সম্মানিত গ্রাহকদের এই ক্রাইসিস সময়ে ধৈর্য ধারণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
চম্পক কুমার/আরএআর
