বিজ্ঞাপন

নাটোরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, দুই ওসি প্রত্যাহারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নাটোরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, দুই ওসি প্রত্যাহারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নাটোরে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান। 

নির্যাতিত সাংবাদিক ফজলুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বুধবার দুপুরে আমরা ইউএনও অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলে এবং আমাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম, সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, ইউনিক প্রেসক্লাবের সভাপতি দেবাশীষ কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, এনটিভির নাটোর প্রতিনিধি হালিম খান, এখন টেলিভিশনের প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন, সময় টিভির আল মামুন, দেশ টিভির প্রতিনিধি মামুন খান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা লালপুর-বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ইউএনওকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন।

আশিকুর রহমান/এসএইচএ