বিজ্ঞাপন

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সরঞ্জামসহ ৪ সদস্য আটক

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সরঞ্জামসহ ৪ সদস্য আটক

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থাকা একটি সাদা প্রাইভেটকার এবং বহন করা দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী মৌজায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার তরফ কামাল গ্রামের মো. সোহরাব হোসেন (৪০), বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিংগলাকাঠী গ্রামের মো. আলামিন (৩৪), পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাটগাড়ি গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৪৭) এবং রংপুর কোতয়ালী থানার রামপুরা এলাকার প্রাইভেটকারচালক মো. মাসুদ পারভেজ মাসুদ (৩৭)।

পুলিশ জানায়, হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. জাকিউল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে টহল ও মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফিরছিলেন। তখন পথে দক্ষিণ গড্ডিমারী এলাকায় একটি সাদা প্রাইভেটকার সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশ।

পুলিশের গাড়ি প্রাইভেটকারটির সামনে অবস্থান নিলে গাড়ির চালকের আসনে মাত্র একজনকে বসে থাকতে দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতর থেকে আরও ৭-৮ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।

পরে প্রাইভেটকারটির ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত গ্রাইন্ডিং মেশিন, একটি ব্যাটারিচালিত ড্রিল মেশিন, আটটি ড্রিল বিট, চারটি গ্রাইন্ডিং ব্লেড, চারটি স্লাইড রেঞ্চ, একটি প্লাস, দুটি ক্যাবল কাটার প্লাস, দুটি হ্যাক্স ব্লেড, তিনটি স্ক্রু ড্রাইভার, দুটি লোহার ছেনী, ১৫টি বিভিন্ন ধরনের চাবি, দুটি কসটেপ, একটি ছোরা ও একটি লোহার দা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল চক্রটি।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করে দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও মানবপাচারসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টও মুলতবি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তাদের সঙ্গে থাকা পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা ও আদালতের ওয়ারেন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত আছে।

এসএইচএ