বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে যেন জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এ দেশের নাগরিক নয়। তাদের কোনো অধিকার নেই। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। এ কারণে দলটির মধ্যে অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে, যার প্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন নোংরামির দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমপিদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করে রেখেছে। এ ধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এজন্যই সংবিধান সংস্কার দরকার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করবে না। কারণ নিজের ভোট দেওয়া গণভোটই তারা মানছেন না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির ও নীলফামারী ১ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও নীলফামারী ৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এমএমবি
