জামালপুরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি) সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তি জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আমিমুল ইহসানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ১০ টার দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে এমন অভিযোগ করেন আমিমুল ইহসান।
আমিমুল ইহসান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফারিহাজ ফাহিম নিহালকে কলেজের ক্যান্টিনে অবরুদ্ধ করে রাখেন কিছু ছেলে। নিহাল তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি নিহালকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। এ সময় সাজ্জাদ, সৈকত, সিয়াম নামের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তার উপর আক্রমণ চালিয়ে মারধর করে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা অভিযোগ করেন, তারা এক চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে ধরা পড়েছে। সেই মুহূর্তের একটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তারা অভিযোগ করেন।
পরে পুলিশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফারিহাজ ফাহিম নিহাল বলেন, আমি আজ বিকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ছিলাম। তখন কিছু ছেলে এসে আমাকে ধরে নিয়ে ক্যান্টিনে বসায় এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। আমি ইহসানসহ আমার কিছু বন্ধুদের ফোন করে সাহায্য চাই। ইহসান ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় কয়েকজন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ইহসান এবং আমাকে মারধর করে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
আমিমুল ইহসান বলেন, নিহাল সাহায্য চেয়ে আমার কাছে ফোন করে। আমি গিয়ে দেখি তারা নিহালকে অনেক মারধর করছে। আমি যাওয়ার পর আমাকে দেখে ছাত্রলীগের ছেলো বলে উঠে, এনসিপি আসছে, এনসিপিকে ধরে মারো। পরে তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমাকে মারধর করে। আমি এ বিষয়ে আমি জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জামালপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বাবায়ক এডভোকেট আবু সাঈদ শামীম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে কাউকে মারধর অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাজ্জাদ, সৈকত, সিয়ামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
বাঁধন হোসেন/ এনটি
